Ticker

6/recent/ticker-posts

ইন্টারভিউর ১১ টি ভুল । ইন্টারভিউ হ্যাকস - ১ম পর্ব



একটি ভালো ইন্টারভিউ (INTERVIEW) আপনাকে যেমন সাফল‌্য এনে দিতে পারে, তেমনি ইন্টারভিউর ভুল বা ব‌্যর্থতা আপনার সারাজীবনের স্বপ্নও নষ্ট করে দিতে পারে। ইন্টারভিউ হলো সবচেয়ে  উত্তম জায়গা নিজের জ্ঞান এবং প্রজ্ঞাকে অন্যের সামনে পেশ করার জন্য । আপনি যত বেশিই জানুন না কেন, আপনি যদি তা প্রকাশ করতে না পারেন তবে তা মূল্যহীন । কিন্তু আমাদের দেশের ৮০ শতাংশের অধিক চাকুরী প্রত্যাশীরা ইন্টারভিউর ভুল, নার্ভাসনেস এবং ইন্টারভিউ প্রস্তুতি না নেওয়ায় নিজেদেরকে সেই স্থানে নিয়ে যেতে পারে না, যেখানে তার যাওয়ার কথা ছিল । 


ইন্টারভিউর ১১ টি ভুল, চাকরির ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন ও উত্তর, ইন্টারভিউ, ইন্টারভিউ  টিপস, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি
ইন্টারভিউর ভুল;

সরকারী চাকুরী এবং বেসরকারি চাকুরী তে ইন্টারভিউ এর প্রাধান্য ভিন্ন হলেও গুরুত্ব কোথাও কম নয় । যখন আপনি জানেন যে আপনি যে জব এর জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসছেন, সেখানে ওই একটি পজিশনের জন্য হয়তো আপনার কয়েকজন বন্ধুও আপনার পাশে বসেই অপেক্ষা করছে!! সত্যি কথা হলো এখন চাকরির অবস্থা এতই খারাপ যে ১টি পোস্টের জন্য কয়েক হাজার এ্যাপলিকেশন জমা পরে। তাই চাকুরিদাতারাও এখন জব ইন্টারভিউ কে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ।
ইন্টারভিউ বোর্ড এ থাকা চোখগুলো আপনার ভিতর টা কে সার্চ করে টেনে আনার চেষ্টা করে । 

এখানে জব সাক্ষাৎকারে যেসব ভুল আমরা করে থাকি, এবং চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কেীশল সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো ।

ইন্টারভিউর ভুলগুলো


ইন্টারভিউর ১১ টি ভুল, চাকরির ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন ও উত্তর, ইন্টারভিউ, ইন্টারভিউ  টিপস, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি
ইন্টারভিউর ভুল






১) ক্লিন শেভ করা : যেকোন প্রতিষ্ঠান সবসময়ই একজন প্রাপ্ত বয়স্ক, ম্যাচিউরড ছেলে  বা মেয়ে কে চায়, কিন্তু আমরা ক্লিনড শেভ করে বালক ছেলের চেষ্টা করি । তবে যদি আপনাকে ক্লিনড শেভ এ ভাল মানিয়ে যায় এবং ম্যানলি দেখায় তবে আপনি করতে পারেন । তবে সবার জন্য সবচেয়ে ভাল হবে যদি আপনি ইন্টারভিউ এর আগের দিন সকাল বা বিকেলে শেভ করেন ।তাহলে আপনাকে ক্লিন লাগবে আর হালকা দাড়ির আভায় ম্যানলিও লাগবে ।

২) প্রোপার ড্রেসড-আপ না হওয়া: 

আমরা অনেকেই ভাবি যে আমার দৈন্যদশা দেখে হয়তো আমাকে চাকরি দিবে! কিন্তু আসল কথা হলো তারা একজন উপস্থাপন যোগ্য, স্মার্ট, আর দক্ষ কর্মী খোঁজ করছেন, আপনার মাঝে তারা যা কোনভাবেই দেখতে পাবে না । আপনি সেখানে চাকরি নিতে যাচ্ছেন কোন দাতব্যখানায় নয় ।

তাই কষ্ট হলেও একটু পরিপাটি হওয়ার চেষ্টা করুন ।
 
 
 

              ভুল ড্রেস কোড বেছে নেওয়া : আমরা অনেকেই তীব্র গরমের মাঝেও ব্লেজার পরে ইন্টারভিউ দিতে বের হই । ফলশ্রুতিতে আপনি ইন্টারভিউ বোর্ড এ প্রবেশ করার পূর্বেই আপনার পরিপাটি চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং আপনার কনফিডেন্স লেভেল কমতে কমতে তলানিতে গিয়ে ঠেকে । এমন অবস্থায় ইন্টারভিউ ভাল করা সত্যিই উদাহরণযোগ্য কাজ হবে । তাই এমন ড্রেস বাছাই করুন যেন একবার তৈরি হওয়ার পর আপনার ড্রেস নিয়ে আর কিছু ভাবতে না হয় । সবচেয়ে কমফোর্টেবল এবং হালকা রং বাছাই করুন ।
          
                   শার্ট-প্যান্ট : কালো প্যান্ট আর সাদা শার্ট কে অঘোষিত ফরমাল ড্রেস কোড বলা হয় । তাই চেষ্টা করুন সাদা শার্ট এবং কালো প্যান্ট পরিধান করার ।তবে যদি আপনার এমন রং না থাকে তবে কাজ চালানোর জন্য হালকা এক রং এর শার্ট পড়ার চেষ্টা করুন । ভুল করেও গাঢ় রং পছন্দ করবেন না । প্রিন্টেড শার্ট আপনার এই কয়েক ঘন্টার জন্য হারাম । চেক শার্ট না পড়া উত্তম, তবে হালকা এবং ছোট চেক হলে বাছাই করতে পারেন । প্যান্ট এর ক্ষেত্রে কালো ফুল ফর্মাল প্যান্ট এর কোন বিকল্প ভাবার চেষ্টাও করবেন না ।
টাই পরলে কালো, নীল এবং লাল এই তিন রঙ এর বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।         
       
                     জুতা এবং বেল্ট : ড্রেসকোডের এই জায়গায় আমরা সবচেয়ে বেশি ভুল করে থাকি। সঠিক নিয়ম হলো আপনাকে জুতা এবং বেল্ট এর রং এক রাখতে হবে । দুটোই কালো রং হলে সবচেয়ে ভাল হয়, তাহলে যেকোম রং এর শার্টের সাথেই পরতে পারবেন । তবে চকলেট রং এর হলেও সমস্যা নেই । 
মোজার রং সবসময় প্যান্টের রং এর সাথে মিলিয়ে পরবেন শর্ট মোজা পরলে সবচেয়ে ভাল হবে, কেননা এটা আরামদায়ক আর প্যান্ট এর রং এর সাথে ১০০ ভাগ না মিললেও সমস্যা নেই । 

৩) গুরুত্বপূর্ণ কাগজ রেখে যাওয়া :          

আপনি বনে কাঠ কাটতে যাবেন আর কুঠার নিয়ে যাবেন না!!এটার কোন কৈফিয়ত হতে পারে না । তাই ইন্টারভিউ আগের রাতে ঘুমানোর পূর্বেই সব কিছু চেক করে নিবেন, আপ্নার ইন্টারভিউ লেটার কিংবা যেখানে দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে, সেখানে দেখে মিলিয়ে নিন । কারণ তারা আপনার কাগজগুলো যতটা না ভেরিফিকেশন এর জন্য দেখতে চাইবে, তার চেয়ে বেশি আপনার কাজের প্রতি দায়িত্ব জ্ঞান পর্যবেক্ষণ করবে । তাই এ বিষয়ে ভুল করবেন না, আপনার সামান্য সতর্কতাই আপনার চাকরি ভাগ্য খুলে দিতে পারে । 

৪) রিপোর্টিং টাইম এর পরে কিংবা পূর্বেই পৌঁছান :

ইংরেজীতে একটা কথা আছে - "টাইম ইজ মানি"। 
হ্যা, তারা আপনাকে এজন্যই চাকরি দিবে যে বিনিময়ে আপনি তাদের সময় দিবেন এবং তারা এটিকে টাকায় কনভার্ট করবে । এখন আপনি যদি প্রথম ইম্প্রেশনেই তাদের মূল চাহিদায় আঘাত করেন! তাহলে আপনি কি আশা করেন? নিজেকে একবার প্রশ্ন করে দেখুন তো! কি উত্তর পান। 


এখন আপনি যদি অনেক আগেই চলে যান, তাহলে তো ইম্প্রেশন আরো পজিটিভ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু না আপনি ভুল ভেবেছেন । আগেই বলেছি, আপনার দায়িত্ববোধ এবং সময় তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু
যখন আপনি নিজেই নিজের সময়ের মূল্য বুজেন না, তখন তাদের সময়ের মূল্য আপনি বুঝবেন, এ বিশ্বাস তারা কোথায় পাবে?? বুঝতে পারছেন তো! যি আর কখনো রিপোর্টিং টাইম এর পূর্বেই রিপোর্ট করতে যাবেন না । 


৫) ওয়েটিং রুমে বসে ফোন ব্যবহার করা :


অনেক সময় দেখবেন ইন্টারভিউ বোর্ড এ খুব কম প্রশ্ন করেই ছেড়ে দিচ্ছে। এবং আপনি খুব ভাল উত্তর দিয়েও যখন চাকরি পেলেন না, তখন হয়তো মনে মনে অনেক গালাগালি দিয়ে থাকবেন। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না, তারা আপনাকে ইন্টারভিউ বোর্ডে নয়, ওয়েটিং রুম থেকে না করে দিয়েছে । ওয়েটিং রুমে ফোন ব্যবহার তাদের কাছে আপনার ইম্প্রেশন এ বড় ধরনের আঘাত আনে । যদি আপনি সময় কাটাতে চান তবে সেরা উপায় হলো পত্রিকা/ ম্যাগাজিন পড়া । এটা আপনার ব্যক্তিত্ব এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিবে । সেই সাথে আপনার সামাজিকতার প্রমাণ দিতে পাশের জনের সাথে কথা বলতে পারেন। 


৬) মোবাইল ফোন নরমাল মোড এ রাখা:

একজন স্মার্ট মানুষ জানে কখন তাকে কেমন আচরণ করতে হবে । কারণ মানুষ চেহারায় কখনো স্মার্ট হয় না, স্মার্টনেস আপনার কার্যাবলীতে প্রকাশ পায় । আপনি যতবিজ্ঞ মানুষই হোন, এটা খব সাধারণ ম্যানার যে যখন আপনি ফরমালি কারো সাথে কথা বলতে যাবেন, তখন পুরো সময়টা তার জন্যই রাখা উচিৎ । তাই ফোন লে বন্ধ না করলেও একদম সাইলেন্ট করে দিন। যেন আপনার প্রতি তাদের মনোযোগ হারানোর মতো কোন অবস্থা আপনি নিজেই না তৈরি করেন । 


৭) আঞ্চলিকতা :  

আপনার আঞ্চলিকতা অবশ্যই আপনার জন্য গৌরবের বিষয়। এবং এটিকে ধরে রাখা আপনার কর্তব্য, সেই সাথে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা আপনার মধ্যে কতটুকু তার প্রমাণও আপনার বাচন কৌশল । 
তাছাড়া বোর্ডে যারা থাকেন, তারা হয়তো আপনার আঞ্চলিকতা টের পেয়ে ডাইভার্ট হয়ে আপনার অঞ্চল নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকবেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনার চাকরি হবে না ।  


৮) ইন্টারভিউ এর সময় বেশি/কম কথা বলা :  

আপনার কাছে তারা যে প্রশ্নটি করেছে, তার উত্তর কিন্তু তারা আপনার কাছে শিখবে না। বরং তারা জানতে চায় আপনি জানেন কি না? তারা ভেবে নিতে পারে যে, আপনার বেশি  কথা বলার বদ অভ্যাস আছে । 
তাই তাদের শুধু জানান দিন যে, হ্যা আপনি এ সম্পর্কে অবগত । তবে ভুল করেও এক কথায় উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন না । এতে তারা মনে করবে যে আপনার হয়তো এই চাকরির প্রতি তেমন ইন্টারেস্ট নাই । 


৯) পূর্ববর্তী চাকুরীকে খারাপভাবে উপস্থাপন করা : 

আপনি যদি আপনার রিজিউমি/সিভি তে কোন চাকরির অভিজ্ঞার কথা উল্লেখ করে থাকেন, তবে আপনি ৯৯% নিশ্চিত থাকুন, আপনাকে তারা এই প্রশ্নটি অবশ্যই করবে যে কেন আপনি চাকরিটা ছাড়লেন/ছাড়তে চান?
আপনি তখন খুব সুন্দর করে নিজের ক্যারিয়ারকে সুগঠিত বা নিজের উন্নতি এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ইচ্ছার কথা বলবেন । একটি উদাহরণ দিচ্ছি- 
'স্যার, আমার বর্তমান/পূর্বের চাকরি টি যথেষ্ট ভাল এবং সবকিছুই ঠিক ছিল । কিন্তু আমি আপনার এখানে কাজ করতে পারলে নিজেকে প্রমাণ করার আরো বেশি সুযোগ পাব । আমার ওখানের চেয়ে এখানে উন্নতি করার অনেক বেশি চান্স রয়েছে, এখানে আমি যে কাজের জন্য আপনার সামনে বসে আছি, সেটাই আমার প্যাশন স্যার, আর ভাল কিছু পেতে হলে কিছু ছাড়তে তো হবেই ।'

আপনি পারলে আরো ভাল কিছু গুছিয়ে নিন। কিন্তু কখনোই পূর্বের চাকরি সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করবেন না । এমনকি যদি সত্যিই আপনার কাজের ক্ষেত্র ভাল না হয়েও থাকে । 
কেননা তখন তারা ভাববে, অন্য কোন অপশন পেলে আপনি চলে যাবেন আর সেখানে গিয়ে তাদের নামেও খারাপ মন্তব্য করবেন। কে নিজের সুনাম বিক্রি করতে চাইবে বলুন!



১০) প্রশ্ন না করা : 

আপনি যদি ইন্টারভিউ বোর্ড এ প্রশ্ন না করেন, তবে কয়েকটি বিষয় ভেবে নেওয়া যায়-
 ১| আপনি ভীত, এবং আত্মবিশ্বাস এর অভাব আছে   আপনার মধ্যে
 ২| এই চাকরি নিয়ে আপনার আগ্রহ নেই 
৩| এই কোম্পানি এবং তাদের কাজ সম্পর্কে আপনার ধারণা নেই
 ৪| আপনার নিজের মধ্যে কোন কৌতুহল (Curiosity) নেই, যা যেকোন কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । 

এখন আপনিই বলুন, এতগুলো সমস্যা নিয়ে কে আপনাকে চাকরি দেবে ? 
তাই প্রশ্ন করুন আর নিজেকে এই চাকরির সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার হিসেবে প্রমাণ করুন । 


১১) কোম্পানি সম্পর্কে রিসার্চ না করা :

ইন্টারভিউর ১১ টি ভুল, চাকরির ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন ও উত্তর, ইন্টারভিউ, ইন্টারভিউ  টিপস, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি
ইন্টারভিউর ভুল- রিসার্চ না করা

বেশিরভাগ বোর্ডে এই প্রশ্নটি রাখা হয় - আপনাকে চাকরি দিলে আপনি আমাদের কি দিতে পারবেন ? 
অথবা, আপনাকে কেন আমরা চাকরি টা দিব ?

এই প্রশ্নের উত্তর কেবল রিসার্চ করলেই পাওয়া যাবে । আপনি যদি সবার মতো আপনি এই পারেন, ওই পারেন বলে যান, তাহলে বাকি সবার মতো আপনাকেও বোর্ড থেকেই ফেরৎ যেতে হবে, জয়েন লেটার হাতে পাবেন না । 

তাই কোম্পানি সম্পর্কে, তাদের কাজ, প্রবৃদ্ধি, পূর্ব অবস্থা, বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করুন । 

সবচেয়ে ভাল হয়, যদি আপনার চোখে কোন সমস‌্যা বের করতে পারেন ।  প্রশ্নটি না করলেও কোন এক ফাঁকে অবশ্যই তাদের ত্রুটি সম্পর্কে অবগত করবেন । 
এটা যদি করতে পারেন, তবে আপনার চাকরি বোর্ড এ পৌছানোর পূর্বেই কনফার্ম ভেবে নিতে পারেন
। 

সমস‌্যা খুজে না পেলেও সমস্যা নেই, তাদের তথ্য থেকে আপনি বুঝতে পারবেন, যে তারা কি কাজ করে এবং  এই মূহুর্তে আপনার কাছে তারা ঠিক কি চাইতে পারে । 


শেষ কথা:

আমরা ইন্টারভিউ কে চিন্তা করি বোর্ড এর সামনে প্রশ্নোত্তর এর সময়টা কে। যা আমাদের ইন্টারভিউর ভুলের মধ‌্যে সবচেয়ে বড় ভুল ।  যেটা অনেক সময়ই আপনার চাকুরী না পাওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাড়ায় । সত্যি কথা হলো ভাল কোম্পানি গুলো মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করা থেকে আপনাকে অবজার্ভ করতে থাকে, আপনার ইন্টারভিউ নেয় ।  তাই প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সতর্কতার সাথে ফেলবেন । ইন্টারভিউর ভুল জয় করুন, সাফল‌্য লাভ করুন ।






Photo from  Pexels

















Post a Comment

0 Comments